গত মাসে চীনের শিল্প খাতে মুনাফা কমেছে। এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে দেশটিতে অনেক দিন ধরে অব্যাহত থাকা মূল্য সংকোচন, দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা। খবর রয়টার্স।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (এনবিএস) তথ্যানুযায়ী, জুনে দেশটির শিল্প খাতের মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। মে মাসে তা ছিল ৯ দশমিক ১ শতাংশ। এছাড়া চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) শিল্প খাতে মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে, যেখানে জানুয়ারি-মে সময়ে কমেছিল ১ দশমিক ১ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চাপ থাকলেও চীনের অর্থনীতি কিছুটা সম্প্রসারণ হয়েছে, যদিও তা প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতিতে। তবে শিল্প খাতে চলমান দাম কমানোর প্রতিযোগিতা, বিশেষ করে গাড়ি ও সৌর প্যানেল খাত কোম্পানিগুলোর মুনাফার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। এ অবস্থায় সরকার এসব খাতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছে।
দেশটির পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিশ্লেষক ইউ ওয়েনিং বলেন, চীনের বাজার আরো সংগঠিত করতে হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি ও শিল্প খাতের মানসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
সূচো সিকিউরিটিজের প্রধান অর্থনীতিবিদ লু ঝে মনে করেন, সরকারের নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা বাড়ানো ও পুরনো পণ্যের বদলে নতুন পণ্য কেনার যে নতুন কর্মসূচি চালু হতে যাচ্ছে, তাতে শিল্প খাতে মুনাফা কিছুটা বাড়তে পারে। এ কর্মসূচিকে অনেকেই ‘ক্যাশ ফর ক্লাংকারস’ ধরনের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন—যেখানে পুরনো পণ্য জমা দিয়ে ছাড়ে নতুন পণ্য কেনা যায়।
জুনে চীনের উৎপাদন খাতে পণ্যের বিক্রয়মূল্য প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে। বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া ও অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে।
এনবিএসের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমেছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। বিপরীতে বেসরকারি খাতে মুনাফা বেড়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বিদেশী কোম্পানিগুলোর মুনাফা বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। যেসব শিল্প কোম্পানির বার্ষিক আয় ২ কোটি ইউয়ান (প্রায় ২৮ লাখ ডলার) বা তার বেশি, শুধু তাদের মুনাফার হিসাবেই এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগের মতো দ্রুত পরিবর্তনের সুফল পাওয়া এবার কঠিন হতে পারে। কারণ নতুন সংস্কার কর্মসূচির কারণে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিস্থিতিও আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে।